যশোর শহরের রায়পাড়া এলাকায় ফের মাদক কারবার বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও তরুণ সমাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় রায়পাড়া মাদক কারবারের জন্য পরিচিত হয়ে উঠলেও কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে আবারও বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রির অভিযোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
একটি অভিযোগপত্রে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে মাদক কারবারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ‘পুলিশ সোর্স রিয়াজ’ নামে চেনেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো পুলিশের সোর্স কি না, এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পাড়া ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্থানে মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলে সাময়িকভাবে স্থান পরিবর্তন করা হলেও পরে আবার মাদক বিক্রি শুরু হয় বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার গুরুতর দাবিও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নথি পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বক্তব্যও অভিযোগের সঙ্গে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রায়পাড়ায় মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও মাদক কারবারের যোগসাজশ থাকলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। মাদক কারবারিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রায়পাড়ায় মাদকের বিস্তার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক সরবরাহের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন