
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, অতীতে বিএনপি ও জামায়াত দেশ শাসন করলেও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়নি। বরং দুর্নীতির কারণে দেশ একসময় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে যদি জনগণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে দেশে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে এবং একটি জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ শহরের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “আমি আপনাদের কাছে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চাইতে এসেছি। আমরা চেয়েছিলাম ইসলামী আদর্শের প্রশ্নে সবাইকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে। কিন্তু দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামী নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। তাই ইসলামের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের এককভাবে পথচলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা একা নই। দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও উলামায়ে কেরাম আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক প্রার্থী উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু কেউ নীতির উন্নয়নের কথা বলেন না। সংসদ সদস্যরা যদি সংসদে সঠিক নীতি প্রণয়ন করেন এবং শাসন বিভাগকে সেই নীতির বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার আওতায় আনেন, তাহলে উন্নয়ন এমনিতেই জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তাই বস্তুগত উন্নয়নের চেয়ে নৈতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
চরমোনাই পীর বলেন, বিগত ৫৪ বছরে জাতি বহু উন্নয়নের গল্প শুনেছে, কিন্তু অধিকাংশ উন্নয়নের আড়ালে ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, খুন, গুম ও টাকা পাচার। এসব কারণে দেশ দিন দিন পিছিয়ে পড়েছে। দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য কাঠামোগত সংস্কার ও নীতি উন্নয়ন জরুরি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্যক্তি নয়, নীতির পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করছে।
এ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি নুরে আলম সিদ্দিকী এবং ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপকের সমর্থনে।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন আহমদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন