
রাজশাহীর বাগমারায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাংকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তিনি বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের একডালা সমষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নিজ বাসভবনে মৃত্যু বরণ করেন।
সোমবার দুপুরে মরহুমের নিজ বাস ভবনের পাশে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাগমারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সালাম গ্রহণ করেন।
জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। রাজশাহী পুলিশের একটি চৌকস দল মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার সামসুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, ফজলুর রহমানসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাং একটি পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও তিন কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে স্থানীয়রা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াকুব আলী প্রাং দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে তার আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণে তাকে সম্মানসূচক মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান চিরস্থায়ীভাবে স্মরণীয় করা হচ্ছে।
এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ দাফনের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি দেশের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও পরিবারবর্গ মরহুমকে গভীর শ্রদ্ধাভরে শেষ বিদায় জানান।
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসেন তার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাং এর জীবন ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে।
মন্তব্য করুন