
সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার হওয়া ১৯ জন জেলের মধ্যে ১০ জন অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। দস্যুদের হাতে দীর্ঘ ছয় দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে তারা নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে এই ঘটনায় এখনো ৯ জন জেলে দস্যুদের কবলে আটকা পড়ে আছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অপহৃত বাকি জেলেদের ভাগ্যে কী জুটেছে এবং তারা বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিয়ে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন এসব জেলে। বনের গভীরে অবস্থানকালে সশস্ত্র বনদস্যুরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের ট্রলার থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই অপহৃতদের পরিবারের কাছে দস্যু বাহিনী মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ শুরু করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে। অপহৃতদের জীবন বাঁচাতে এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা কোনো উপায় না পেয়ে দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মুক্তিপণ পরিশোধ করেন। মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর ১০ জন জেলেকে মঙ্গলবার রাতের আঁধারে বনের কোনো এক এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখান থেকে তারা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
ফিরে আসা জেলেরা বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। দীর্ঘ ছয় দিন অন্ধকার বনে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো এবং দস্যুদের হাতে বন্দী থাকার অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বনের ভেতর দস্যুদের একাধিক গোপন আস্তানা রয়েছে যেখানে তারা জেলেদের জিম্মি করে রাখে। এদিকে যে ৯ জন জেলে এখনো মুক্তি পাননি, তাদের পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে দস্যুদের দাবি মেটাতে পারছে না। ফলে বাকি জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের জন্য এই অপহরণ ও দস্যুতা নতুন কোনো সংকট নয়। জীবন ও জীবিকার সন্ধানে বন সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার প্রচেষ্টার পরও এ ধরনের অপহরণের ঘটনা স্থানীয় জনপদে নতুন করে ভয়ের জন্ম দিয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে এবং বনদস্যুদের দমনে বন বিভাগ বা বিশেষ বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বন সংলগ্ন এলাকার মানুষেরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাকি ৯ জেলে এখনো দস্যুদের ডেরায় বন্দী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন