
শ্যামনগরের গাবুরা এলাকায় স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা **ফেইথ ইন এ্যাকশন** একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। কানাডার দাতা সংস্থা **ওয়ার্ল্ড রিনিউ** এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত **“জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী”** প্রকল্পের অংশ হিসেবে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ৫ দিনের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ।
২৫ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন গাবুরার ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামের মোট ১৫ জন স্বাস্থ্য সেবক। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ যেমন ফাস্ট এইড বক্স বিতরণ করা হবে।
২৯ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে সভাপতিত্ব করেন ফেইথ ইন এ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক **নৃপেন বৈদ্য**। উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি **বেলাল হোসেন** এবং অনলাইনে ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী **তীমন বাড়ৈ**, সিআরসি প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার **মিল্টন বাড়ৈ**, প্রশিক্ষক **ডা. অয়ণ উৎসব বৈদ্য**, **ডা. আশরাফ মাহমুদ সোহাগ**, মিল অফিসার **প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস**, হিসাবরক্ষক **লরেন্স ঢালী** ও জেন্ডার অফিসার **নওমী বিশ্বাস**।
ফেইথ ইন এ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “আমরা গাবুরাতে মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছি। এই ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী গাবুরায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত হলে স্থানীয় মানুষরা মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসেবকরা কমিউনিটিতে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুর যত্ন, পুষ্টি এবং মাতৃত্বকালীন চেক-আপের পরামর্শ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে মানুষকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রেরণ করতে পারবেন।”
সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, “গাবুরাতে স্বাস্থ্য সেবার মান এখনও কম। অসুস্থ মানুষকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেকের মৃত্যু হয়। ফেইথ ইন এ্যাকশনের এই কার্যক্রম মানুষকে সচেতন করবে এবং স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃতভাবে হলে মাতৃমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।”
অংশগ্রহণকারী **ফাহিমা খাতুন** বলেন, “এমন প্রশিক্ষণ আগে প্রয়োজন ছিল। প্রশিক্ষকরা আমাদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সব বিষয়ে বিস্তারিত শিখিয়েছেন। ফিল্ডে গিয়ে আমরা তা প্র্যাকটিক্যালভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি। এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে আমি গর্বিত।”
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানের পর, স্বাস্থ্যসেবকরা কমিউনিটিতে গিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রম শুরু করবেন।
মন্তব্য করুন