
খুলনায় চারুশিল্পীদের স্বাধীন ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম **আর্ট সার্কেল খুলনা** আত্মপ্রকাশ করেছে। এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী **‘শিল্পকর্ম প্রদর্শনী-২০২৬’** শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য **প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।**
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ছাড়া কোনো দেশ ও সমাজ পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করতে পারে না। একটি জাতির মনন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে শিল্প-সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিল্পচর্চার অগ্রগতি ও সৃজনশীলতা একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম সূচক।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সদ্য আত্মপ্রকাশ করা আর্ট সার্কেল খুলনা দেশের শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী **প্রফেসর জামাল আহমেদ।** তিনি বলেন, “শিল্পকর্ম বোঝা সহজ নয়; তা সরাসরি দেখার মাধ্যমে গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। প্রদর্শনীই শিল্পকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। ড্রইং হলো শিল্পের ভিত্তি, এবং ড্রইংয়ে দক্ষতা ছাড়া একজন শিল্পীর জন্য গভীর ও পরিপক্ব শিল্পচর্চা সম্ভব নয়।”
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আর্ট সার্কেল খুলনা’র প্রতিষ্ঠাতা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের প্রধান **ড. মোঃ তরিকত ইসলাম।** বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের **প্রফেসর আনিসুজ্জামান আনিস**, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক **মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম**, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ডিন **প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ** ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক **এস এম নাজিমুদ্দিন।** স্বাগত বক্তব্য দেন **শহিদুল ইসলাম সবুজ**, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন **শাপলা সিংহ।**
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পকর্মগুলো ঘুরে দেখেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বরেণ্য ও নবীন শিল্পীদের চিত্র, ছাপচিত্র ও স্থাপত্য সংক্রান্ত কাজ প্রদর্শিত হয়েছে। আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হলো শিল্পচর্চার প্রসার, শিল্পীদের মধ্যে সৃজনশীল যোগাযোগ সৃষ্টি করা এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা।
তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে **৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত**, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মন্তব্য করুন