
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি এলাকায় গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও সামরিক সরঞ্জামসহ পাঁচজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন আয়মান (৬ ইবি)। অভিযানটি কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানাধীন জয়ানগর ইউনিয়নের দেবদুন এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি বসতবাড়িতে পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি হাসুয়া, একটি ছুরি, একটি স্টিলের তরবারি, একটি কোঁচ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিফর্ম সেট, একটি হ্যান্ডকাফ এবং নগদ চার হাজার সাতশ চল্লিশ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দেবদুন গ্রামের মো. ইব্রাহিম কাজী (৩২), পিতা ইলিয়াস কাজী; ফরহাদ শেখ (২৫), পিতা শেখ সৈয়দ আলী; ইসরাফিল মুন্সি (১৬), পিতা ইব্রাহিম মুন্সি; জাহিদুল ইসলাম (২২), পিতা মৃত সারোয়ার এবং আব্দুল কাদের (২১), পিতা মৃত তাহাদ্দুদ। তারা সবাই নড়াগাতি থানাধীন জয়ানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মালামালসহ নড়াগাতি থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযানকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আয়মান বলেন, “মাদক ও অবৈধ অস্ত্র কারবার রোধে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। সমাজকে নিরাপদ রাখতে এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের অভিযান স্থানীয় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। প্রশাসনের এই অভিযানে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বরং সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন