
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীতে নৌকা থেকে পড়ে মতুয়া সংঘের এক সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম মনোজ পাইক (৪৮)। তিনি খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার কামারগাতী গ্রামের বাসিন্দা এবং সুনীল পাইকের ছেলে। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে মনোজ পাইক মতুয়া সংঘের একটি দলের সঙ্গে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা–হাচলা ইউনিয়নের কালু খালি (জুশালা) গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি মহা উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে অংশগ্রহণ শেষে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি নৌকাযোগে নিজ বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ফেরার পথে কালিয়া খেয়াঘাট এলাকা অতিক্রম করার সময়, ঘাট থেকে আনুমানিক পাঁচ মিনিট দূরত্বে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হলে অসাবধানতাবশত তিনি নবগঙ্গা নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে থাকা স্বজন ও সঙ্গীরা টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং নৌকা থামিয়ে নদীতে খোঁজাখুঁজি চালান। তবে রাতভর চেষ্টা করেও নিখোঁজ মনোজ পাইকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, মনোজ পাইক দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, নদীতে পড়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনও নদীর তীরে ভিড় করেন এবং উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। তবে নদীর গভীরতা ও রাতের অন্ধকারের কারণে উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, খুলনার দিঘলিয়া এলাকা থেকে খায়রুল গাজী নামের এক ব্যক্তি ফোন করে বিষয়টি থানাকে অবহিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ওসি আরও বলেন, “ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও উদ্ধারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিখোঁজের খবর শোনার পর থেকেই মনোজ পাইকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, নবগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সহায়তা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন