
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এ দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই। তিনি উল্লেখ করেন, “আগামী ১২ তারিখে জাতীয় সংসদে কুরআন যাবে, না মানব রচিত মতবাদ যাবে—সেটার পরীক্ষা হয়ে যাবে।” শনিবার জয়পুরহাটে আয়োজিত পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার দুপুরে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং বিকেলে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দানে এই নির্বাচনী জনসভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আপনারা মূলত দুই ভাগে ভাগ করতে পারেন। যারা আল্লাহর আইন, কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের পক্ষে অবিচল আছে, তারাই আল্লাহর দল। অন্যদিকে, যারা ইসলামী শরিয়তের বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—তাদের নাম যাই হোক না কেন—তারা মূলত শয়তানের দলের অনুসারী।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম করতে হলে পবিত্র কুরআনকে জাতীয় সংসদে নিয়ে যেতে হবে। মানব রচিত আইন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কিসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত দেখতে চায়। তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণকে আগামী ১২ তারিখে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে কুরআন ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ফজলুর রহমান সাইদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি শোষণমুক্ত ও ইসলামভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয় এখন সময়ের দাবি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে জামায়াতের বিকল্প নেই।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া, সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম এবং জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ফকির।
বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে জামায়াতে ইসলামী একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফ কায়েমকারী রাষ্ট্র উপহার দেবে।
উভয় জনসভাতেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পুরো আয়োজন জুড়েই শ্লোগান ও উপস্থিতিতে মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচনী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
মন্তব্য করুন