
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নামাজরত অবস্থায় শাশুড়িকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত পুত্রবধূ ছেনোয়ারা বেগমকে (২৫) রক্তমাখা দা-সহ আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পূর্বপাড়া নতুন মসজিদের উত্তর পাশের একটি বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শাশুড়ি আছরের নামাজ পড়ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন থেকে দা দিয়ে তার গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন পুত্রবধূ ছেনোয়ারা। এতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধা। ঘটনার সময় নিহতের ছেলে ও অভিযুক্তের স্বামী মো. ইদ্রিস সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
নিহতের ছেলে মো. ইদ্রিস জানান, “আমি প্রতিদিনের মতো দুপুরে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। বিকেলে খবর পাই আমার মা আর নেই। আমার স্ত্রী ছেনোয়ারা নামাজ পড়া অবস্থায় মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর সে ব্যবহৃত দা-টি ঘরের চালের ওপর ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।”
প্রতিবেশীরা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধার গোঙানির শব্দ শুনে তারা ঘরে ছুটে যান। সেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ছেনোয়ারা বেগমকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি সবার সামনে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গত পাঁচ দিন আগে শাশুড়ির সঙ্গে ছেনোয়ারার প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। চার দিন নিখোঁজ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি হঠাৎ স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারের সবার সাথে স্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। ধারণা করা হচ্ছে, শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি কৌশলে ফিরে এসেছিলেন এবং স্বামীর অনুপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেনোয়ারা বেগমকে আটক করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা-টি উদ্ধার করে। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পুত্রবধূ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো জাহাজপুরা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘাতক পুত্রবধূর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন