
তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হতেই সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় এখন সরগরম ভোটের মাঠ।
বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন। জনসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ততই বাড়ছে। ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি দিন-রাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা।
হাট-বাজার থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের উঠান বৈঠক—সবখানেই চলছে বিরামহীন প্রচারণা। জানা গেছে, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা করছেন তারা। দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। চায়ের দোকানগুলোতেও এখন প্রধান আলোচনার বিষয় নির্বাচন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বড় রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পদচারণাও চোখে পড়ছে। প্রার্থীরা মূলত হাওর অঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যাঁর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হবে এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইটি খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন ও দুঃসময়ে জনগণের পাশে থাকা প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কার গলায় উঠবে, তা নির্ধারিত হবে সাধারণ ভোটারদের রায়ের মাধ্যমেই।
মন্তব্য করুন