
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অনেকাংশেই নির্ভর করে নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার ওপর। এই সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সৎ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল মনোভাব একটি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তুলতে পারে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সেই সৎ ও দায়িত্বশীল পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আশরাফুল হকসহ তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ওমর ফারুক, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইমরান আনসারী ও মো. শামীম শাহ, স্ক্যানিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স অপারেটর তৌফিকুল ইসলাম, অফিস সহায়ক বনিতা রানী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী রিতন বাস ফোর এবং নিরাপত্তা প্রহরী মো. জুয়েল রানা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন কার্যালয়ের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রার্থী মনোনয়ন যাচাই, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতকরণ, ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ—সব ধাপেই তাঁর সঠিক তদারকি ও দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। একজন সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা হলে নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং প্রার্থী ও ভোটার—উভয় পক্ষই আস্থা পায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আশরাফুল হক বলেন, “আমার বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ামতপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।”
একজন সৎ উপজেলা নির্বাচন অফিসার কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেন না। তিনি সব প্রার্থীর সঙ্গে সমান আচরণ করেন এবং নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেন। এর ফলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার আশঙ্কা কমে আসে। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
নির্বাচন তখনই প্রকৃত অর্থে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, যখন জনগণ আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করে। ভোটের দিন ভয়ের পরিবর্তে উৎসবের আবহ তৈরি হলে দেখা যায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভোট প্রদান করছেন ভোটাররা। নারী ও তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি সফল নির্বাচনের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও তাঁর দপ্তরের সততা, নৈতিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান চালিকাশক্তি। নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের এই সৎ ও দায়িত্বশীল মনোভাব অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং গণতন্ত্রের এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।
মন্তব্য করুন