
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাস ও সবজি বহনকারী ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববার (সকাল আনুমানিক ৮টা) উপজেলার সুলতানগঞ্জ এলাকার ফরিদপুর পাম্পের সামনে একটি ব্যস্ত টার্নিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে চালকের উপস্থিত বুদ্ধি ও স্থানীয়দের দ্রুত সহায়তায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিক থেকে আসা একটি সবজি বোঝাই ভ্যান সড়কের মোড় ঘোরার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মহানন্দা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি রাস্তার ওপর উল্টে যায় এবং বাসটির পাশের অংশে আঘাত লাগে। এতে বাসটির কয়েকটি কাঁচ ভেঙে যায় এবং ভ্যানের সবজি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ভ্যানচালক দ্রুত লাফিয়ে পড়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তবে এতে তিনি আহত হন। বাসের ভেতরেও কয়েকজন যাত্রী ধাক্কা লেগে আহত হন। তবে গুরুতর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাসের যাত্রীরা জানান, চালক তাৎক্ষণিকভাবে বাসের গতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। যাত্রীদের একজন বলেন, “সংঘর্ষটা হঠাৎ করেই ঘটে। তবে চালক দ্রুত ব্রেক কষে বাস থামিয়ে দেন, না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কেউ কেউ আহতদের কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে সড়কে ছড়িয়ে পড়া সবজি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাস্থলে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই এলাকায় সড়কের টার্নিংটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানানো হয়।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের আরও সতর্কতা অবলম্বন, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন