
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬০ জন মৎস্যজীবীর মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’–এর আওতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বকনা বাছুর বিতরণ করেন কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, “দেশীয় মাছ ও শামুক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। অনেক মৎস্যজীবী বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েন। তাদের সেই সংকট কাটিয়ে উঠতেই এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বকনা বাছুর লালন-পালনের মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা ভবিষ্যতে গবাদিপশু থেকে আয় করতে পারবেন। এতে তারা স্বাবলম্বী হবেন এবং পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জলাশয়ে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হলেও অনেক মৎস্যজীবী সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় বকনা বাছুর বিতরণসহ নানা সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
বকনা বাছুর পেয়ে উপকারভোগী মৎস্যজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক উপকারভোগী মৎস্যজীবী বলেন, “আমাদের আয়ের প্রধান উৎস মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এখন এই বাছুর বড় করে ভবিষ্যতে ভালো আয়ের আশা করছি।” তিনি এ ধরনের উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা বিকল্প পেশার প্রতি আগ্রহী হবেন এবং দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণে আরও সচেতনতা বাড়বে। ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হলে কাঠালিয়া উপজেলার মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন