
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীর সংগমস্থল থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পর মনোজ পাইক (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া-মঙ্গলপুর এলাকার নদী অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেলে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহটি গত ৩০ জানুয়ারি রাতে নিখোঁজ হওয়া মনোজ পাইকের। মরদেহটি উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য লোহাগড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার কামারগাতী গ্রামের বাসিন্দা সুনীল পাইকের ছেলে মনোজ পাইক গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর ঘাট এলাকায় একটি চলন্ত ট্রলার থেকে নবগঙ্গা নদীতে পড়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজের পরপরই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করেন। তবে দীর্ঘ ছয় দিন ধরে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বিরাজ করছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, মনোজ পাইক দীর্ঘদিন ধরে মৃগি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রলারে চলাচলের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে তিনি নদীতে পড়ে যেতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীর সংযোগস্থলে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও পথচারী নদীতে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরে মরদেহের ছবি ও খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বড়দিয়া এলাকায় পৌঁছান এবং মরদেহটি মনোজ পাইকের বলে শনাক্ত করেন। মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ বিষয়ে বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. অহিদুর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে পরিবারের লোকজন এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন। মরদেহটি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য লোহাগড়া থানায় পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে গভীর শোকের মাতম চলছে। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন