
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নাসিরনগরে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান। আদালত জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা এবং বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপন্থী একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগগুলোর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা চালানো, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার করে প্রচার চালানো, অনুমোদনবিহীন পোস্টার ও ব্যানার টানানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার আদেশ দেন এবং ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আচরণবিধি মানা সকল প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক এবং কোনো প্রার্থী, দল বা সমর্থক নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়, স্থান ও পদ্ধতির বাইরে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। পোস্টার, ব্যানার ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে জরিমানা ছাড়াও প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নাসিরনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এটি কোনো দল বা ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়; বরং নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
প্রশাসন আরও জানায়, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় নাসিরনগরসহ পুরো উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন