
নড়াইলের দুইটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার ২৫৮টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৩২৫টি কক্ষে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরেই নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক) একসঙ্গে নড়াইল সরকারি বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেন। ভোট দেওয়ার পর তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে অনেক ভোটার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন ভোটার জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত। জেলার দুইটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৪২ জন।
নড়াইল-১ ও নড়াইল-২—এই দুই আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নড়াইল-১ আসনে বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আব্দুল আজিজ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মিলটন মোল্যা (লাঙ্গল) এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনে বিএনপির ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শোয়েব আলী (ছড়ি) এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভোটগ্রহণ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
মন্তব্য করুন