
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পরদিনই নির্বাচনী এলাকায় জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। শুক্রবার সকাল থেকে তিনি রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে সাধারণ ভোটার, সমর্থক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। সর্বত্র তাকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও উচ্ছ্বাস।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই তিনি জনগণের মাঝে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান। সকাল থেকে তার সফরসূচিতে ছিল বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও কুশল বিনিময়। পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে সমর্থকরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করেন। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। পুরো এলাকায় ছিল বিজয়ের আবহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর পবা-মোহনপুরের মানুষ তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন পেয়েছেন। অনেকেই বলেন, উন্নয়ন ও গণমানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তারা নতুন করে আশাবাদী। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, সারা দেশে ধানের শীষের যে বিপুল বিজয় অর্জিত হয়েছে, তা জনগণের রায় এবং আল্লাহর রহমত। তিনি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই নির্বাচনের প্রকৃত আয়োজক দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থনেই এই ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি নওহাটা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং একটি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। পরে নিজ পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকাজুড়ে বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নির্বাচনের পরদিনই জনগণের মাঝে উপস্থিত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বার্তা দিয়েছেন—তিনি থাকতে চান মানুষের কাছাকাছি, মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে।
মন্তব্য করুন