
রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়ার পর নিজের প্রতীকের সঙ্গে শৈশবের আবেগঘন স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব-কে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট, আর ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাঁস কোলে নিয়ে প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার অনেক হাঁস ছিল, মোরগ ছিল, কবুতর ছিল। আম্মুর বড় চাকরির সুবাদে আমরা বড় বড় বাসায় থাকতাম। পরে ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেলে এগুলো আর পালা হতো না। কিন্তু এখানে (ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়) আমার হাঁস-মুরগি আছে, ওদের সঙ্গেই অবসর সময় কাটে।”
হাঁসের সঙ্গে ব্যক্তিগত এই স্মৃতি ও আবেগ থেকেই প্রতীকটি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
বিএনপি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ের পথ সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার জার্নিটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছে আমাকে সমর্থন দেওয়া নেতাকর্মীরা। আমি না জিতলে হয়তো ঢাকায় ফিরে গিয়ে আবার পেশায় ফিরে যেতাম।”
তিনি আরও বলেন, তার সমর্থক অনেক নেতাকর্মী বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নানা কষ্ট সহ্য করেছেন—তাদের এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করা কঠিন।
রুমিন অভিযোগ করেন, ভোটের দিন দুপুরের পর বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল আটকে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, “জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে আমি নিজে গিয়েছি। খেজুর গাছের কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। আবার ভোট গণনা করিয়েছি, কিছু ফলস ভোটও পেয়েছি—এসবই ছিল চ্যালেঞ্জ।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দলীয় প্রার্থী না। এলাকায় টিকে থাকতে হলে কাজ করা ছাড়া আমার কোনো বিকল্প নেই। আবার নির্বাচন করতে হলে কাজ দিয়েই জনগণের কাছে যেতে হবে।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে দলে ফেরাতে চাইলে তার সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদেরও পুনর্বহাল করতে হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের অন্তত ১০ নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন