
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে শুক্রবার প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফলে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরামত আলী। পোস্টাল ভোটসহ তিনি মোট ২,০৬,৮৯৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১,৬২,৫১৫ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ড. মিজানুর রহমান, যিনি ১,৭১,২২৭ ভোট অর্জন করেছেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১,৫৫,১১৯ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি পোস্টালসহ ১৭৩টি কেন্দ্রে মোট ১,৮৯,৬৪০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১,২৬,৯৯৭ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ বলেন, “জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা সমানভাবে সমর্থন পেয়ে তিনটি আসনই জয় করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলার ঐতিহ্যবাহী ভোটার সমর্থন ও কার্যকর প্রার্থীর প্রচারণা বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন পরিবেশও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রমে মনোযোগী হবেন। জনগণও আশাবাদী যে, নতুন প্রতিনিধিরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে আন্তরিক হবেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের এই ফলাফল আগামী দিনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও নতুন প্রতিনিধিদের কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে।
মন্তব্য করুন