
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন হারুনুর রশীদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
লিখিত বার্তায় হারুনুর রশীদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি আসনের নির্বাচনে পরাজয় মানেই আদর্শের পরাজয় নয়। তার ভাষায়, “আমরা একটি আসনের লড়াই হেরেছি, কিন্তু বৃহত্তর সংগ্রামে জয়ী হয়েছি। দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”
তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দল এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তারেক রহমান-কে দেশনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে হারুনুর রশীদ জানান, তিনি সংসদ সদস্য না হলেও ক্ষমতাসীন দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। তার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, নদী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এছাড়া দলীয়ভাবে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তাও দেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা হুমকি বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার ভাষায়, “আমার লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতা নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।”
সবশেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং মহান আল্লাহর সহায়তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন