
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত আসন সমঝোতা জোটের প্রার্থী এবং গণসংহতি আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তার এই জয়ে পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা এই ফলাফলকে গণমানুষের প্রত্যাশা, আস্থা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
উপজেলার মোট ৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা ফল অনুযায়ী, মাথাল প্রতীকে ৯৪ হাজার ২৩১ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন জোনায়েদ সাকি। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসিন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ৩৭ হাজার ৯৬৫ ভোট পান। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি-এর প্রার্থী ‘তারা’ প্রতীকে ১৬১ ভোট অর্জন করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. সাইদুজ্জামান কামাল ‘হরিণ’ প্রতীকে পান ১ হাজার ৮৮৮ ভোট এবং মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার ‘ফুটবল’ প্রতীকে ৬৫৬ ভোট লাভ করেন।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-এর মো. আবু নাসের ‘মোমবাতি’ প্রতীকে ২ হাজার ৩০৫ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এর মো. সফিকুল ইসলাম ‘আম’ প্রতীকে ১০৪ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর মো. হাবিবুর রহমান ‘আপেল’ প্রতীকে ১৩৯ ভোট পান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাইদউদ্দিন খান ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ৮ হাজার ৪৮৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সফিকুল ইসলাম ‘ট্রাক’ প্রতীকে ২৮৭ ভোট লাভ করেন।
নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক সমর্থিত জোট ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক গণসমর্থন লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ সময় পর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পায়। অনেক ভোটার জানান, প্রায় ১৭ বছর পর তারা নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি আরও বলেন, সুশিক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই তার অঙ্গীকার।
উপজেলা প্রশাসন তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। এখন আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তার ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
মন্তব্য করুন