
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার শীলখালী এলাকায় বিশেষ অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)। এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালায় বিজিবি সদস্যরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিক্স ডগ ‘হেনরি’র সহায়তা নেওয়া হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে কুকুরটি গাড়ির দরজার নিচের অংশে সন্দেহজনক স্থানে সংকেত দেয়। পরে সেখানে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্যাকেট থেকে মোট ৬,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটক চালক মো. তৈয়ব (৩১) কক্সবাজার সদরের কলাতলী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কি না—তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে বিজিবি জানিয়েছে, তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া চালকের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যে কোনো ধরনের চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, আটক আসামি ও জব্দকৃত ইয়াবাসহ অন্যান্য আলামত প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ থানা-য় হস্তান্তর করা হচ্ছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও চোরাকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিজিবির দাবি, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।
সীমান্ত অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন