
মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা এলাকায় অবস্থিত রাকিব হোটেলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হোটেলটিতে খাবারে নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল ১১.৩০টা থেকে দুপুর ১.৩০টা পর্যন্ত হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। এ সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম সার্বিক সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে দেখা যায়, হোটেলের ফ্রিজে রান্না করা খাবার এবং কাঁচা মাছ ও মাংস একসাথে রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। হোটেলের রান্নাঘর অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছিল। মেঝেতে যত্রতত্র খাদ্যদ্রব্য রাখা, কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অভাব এবং ব্যবহৃত টয়লেটে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ না থাকা বিষয়গুলো নজরে আসে। কর্মচারীরা টয়লেট ব্যবহার শেষে হাত ধুয়েই না রান্নার কাজে নামছিলেন।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ জানান, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। অনিয়মিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি এড়াতে রাকিব হোটেলকে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণ যাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পান, সেজন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
মাগুরা জেলা পুলিশের অংশগ্রহণে অভিযানে হোটেল মালিককে সরাসরি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় দায়িত্ববদ্ধ করা হয়। স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন এমন অভিযানকে এবং আশা প্রকাশ করেছেন, জেলা ও শহরের অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানেরও নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যমান নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে এবং অনিয়মী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন