
জগন্নাথপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জগন্নাথপুর পৌরসভা ও স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের যৌথ তদারকিতে সানলাইট বোডিং ভবনের অবৈধ অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবনটির মালিকপক্ষ ইতিমধ্যেই নিজ উদ্যোগে তৃতীয় তলা অপসারণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানলাইট বোডিং ভবনটি হবিবপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী চোট মিয়ার মালিকানাধীন। শুরুতে এটি আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হলেও বর্তমানে হোটেল অবকাঠামো পরিবর্তন করে ব্যাচেলরদের বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
গত বছর নলজুর নদীর ওপর আর্চ গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের সময় বিদ্যুৎ অফিস সানলাইট বোডিংয়ের পাশে থাকা ৩৩ কেভি ও ০.৪ কেভি বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে স্থানান্তর করে মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করে। কিন্তু লাইন স্থানান্তরের পর ভবনের মালিক রাইট অব ওয়ে উপেক্ষা করে ভবনের সামনের অংশে তৃতীয় তলা অবৈধভাবে নির্মাণ করেন।
এই বিষয়টি নজরে আসার পর, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জগন্নাথপুর বিদ্যুৎ অফিস ভবনের মালিক/দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে লিখিত নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, অবৈধ অংশ অপসারণ না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশ প্রদান ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জগন্নাথপুর পৌরসভার যৌথ তদারকিতে মাপজোখ সম্পন্ন করা হয়। আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ আজিজুল ইসলাম আজাদ এবং পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সতীশ গোম্বামী সাংবাদিকদের জানান, নোটিশ পাওয়ার পর মালিকপক্ষের কেয়ারটেকার সিপন তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা নিজ খরচে তৃতীয় তলা অপসারণ করবেন।
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানানো হয়, মালিকপক্ষ যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তৃতীয় তলা অপসারণ না করেন, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জগন্নাথপুর পৌরসভা ও বিদ্যুৎ অফিসের এই উদ্যোগ স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং আইনগত নিয়মকানুনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।
এ ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ তদারকির মাধ্যমে শহরে নিরাপদ ও নিয়মিত অবকাঠামো বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন