
নড়াইল সদর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের বিলডুমুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন মোল্যার বাড়িতে রাত আনুমানিক ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বের হয়ে তারা ঘরের একটি অংশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনে ঘরে থাকা ধান, রবিশস্য, কাঠের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ঘরের ভেতরে কেউ অবস্থান করছিলেন না, ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে এ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু। তিনি বলেন, “বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে নড়াইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, অগ্নিসংযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। “প্রাথমিকভাবে এটি নাশকতার ঘটনা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,” বলেন তিনি।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মন্তব্য করুন