
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তিন শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নর শ্রীধরপাশা গ্রামে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব আলম কোরেশীর নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে এ অর্থ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াত উমরা মিয়া কোরেশীর পরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ সামাজিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রমজানকে সামনে রেখে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি আশপাশ এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ নগদ সহায়তা তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীধরপাশা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি রুহেল আলম কোরেশী, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও উমরা মিয়া কোরেশী হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি লিয়াকত হুসেন অমৃত, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মাছুম কোরেশী, সহ-সভাপতি জুনেদ আহমদ, সদস্য সালমান আলম, আনোয়ার হোসেন, আরমান আলম কোরেশীসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ সময় বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব আলম কোরেশী বলেন, “মাহে রমজান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। রোজা আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকাই রোজার মূল লক্ষ্য নয়; বরং অন্তরের লোভ-লালসা ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখাও রোজার শিক্ষা। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এ মাসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
তিনি আরও বলেন, রমজানের চেতনা কেবল একটি মাসে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছরই অসহায়, সহায়সম্বলহীন ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উপকারভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন