
পবিত্র রমজানের শুরুতেই নড়াইলের পাইকারি মাছের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার লোহাগড়ার মধুমতী মৎস্য মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই লোহাগড়া বাজারে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। হাঁকডাক আর দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে জমে ওঠে কেনাবেচা। তবে রমজানের প্রথম দিনে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার শুরুতে অনেকেই খরচের হিসাব কষে বাজার করছেন, ফলে পাইকারি বাজারে আগের মতো ভিড় দেখা যায়নি।
আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) পাইকারি বাজারে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। আধা কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। দুই কেজি ওজনের পাঙাশ ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া কই মাছ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বিভিন্ন আকারের চিংড়ি ও অন্যান্য দেশীয় মাছও তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহেও মাছের দাম ভালো ছিল। রমজানের প্রথম দিনে বাজারে মাছের আমদানি বেড়েছে, বিশেষ করে ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। তারপরও দাম কমেনি। তাদের ভাষ্য, পরিবহন ব্যয় ও আড়ত খরচ বৃদ্ধির কারণে দামে প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে গিয়ে আরও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। অনেক খুচরা বিক্রেতা বলছেন, বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়, ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই চাপ পড়ছে।
মধুমতী মৎস্য মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, “বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ কিছু মাছের দাম কমও হয়েছে। আশা করছি, রমজানজুড়ে মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।”
উল্লেখ্য, নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতী পাইকারি মাছ বাজারটি জেলার বৃহত্তম মৎস্য আড়ত। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় এখানে গড়ে ১০ লাখ টাকার বেশি মাছ কেনাবেচা হয়। রমজান মাসে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
মন্তব্য করুন