
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে বিশেষ অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)। এ ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী প্রাইভেটকারের চালককে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশির জন্য থামানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি বিজিডি-১১২৮ নম্বরের নারকোটিক্স ডগ “হেনরি” (পুরুষ, ল্যাব্রাডার) অংশ নেয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে ডগ “হেনরি” গাড়িটির পেছনের অংশে অস্বাভাবিক আচরণ করে সংকেত দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা প্রাইভেটকারের পেছনের সিট কভারের নিচে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা কালো স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেট উদ্ধার করেন। প্যাকেট খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক মোহাম্মদ আরাফাত (২৩), পিতা—হোসাইন আহমদ, গ্রাম—বাহারছড়া, সাবরাং, থানা—টেকনাফ, জেলা—কক্সবাজারকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আরাফাত জানান, তিনি টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার ও আটক আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদকের বিস্তার রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্তব্য করুন