
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও দেশাত্মবোধের আবহে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল শ্রদ্ধা, স্মরণ ও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক অনাড়ম্বর আয়োজন।
শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এ সময় ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয় এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতার সেই মুহূর্তে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে আসে এক গম্ভীর পরিবেশ, যা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়।
অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদদের আত্মদান বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সোহাগ মিয়া। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, মো. ওয়ালিউল্লাহ, মো. আল আমিন, মাওলানা গোলাম মোস্তফা, মো. রোমন হায়দার, শাহনাজ ফাতেমা, জামিনা আক্তার, নাজমা খাতুন, প্রাণধন চন্দ্র, বিভাষ চন্দ্র দাস, মো. শরিফুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, আল মামুনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়া বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ রানা, মেহেদি হাসান, পাখি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক শিক্ষার্থী কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে, আশ্রাফবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালন ছিল সুশৃঙ্খল, তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত করার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
মন্তব্য করুন