
১. সময়সূচির হঠাৎ পরিবর্তন
সারা বছর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও রমজানে সাহরির জন্য গভীর রাতে উঠতে হয়। আবার তারাবিহ শেষে অনেকের ঘুমাতে দেরি হয়। এতে শরীরের জৈবঘড়ি (বডি ক্লক) বিঘ্নিত হয়ে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়।
২. ইফতারে ভারী খাবার
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার হজমে সময় নেয়। ফলে বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক ও অস্বস্তি তৈরি হয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৩. ক্যাফেইন ও মিষ্টি পানীয়
ইফতার বা রাতের খাবারের পর চা, কফি কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে স্নায়ু উত্তেজিত থাকে। এতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুম গভীর হয় না।
৪. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
তারাবিহ শেষে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভি ব্যবহার করলে ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর নিঃসরণ কমে যায়। ফলে ঘুমের মান নষ্ট হয়।
৫. দিনে বেশি ঘুম
রাতে কম ঘুমের ঘাটতি পূরণে দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে আবার ঘুম আসে না। এতে পুরো ঘুমের চক্র এলোমেলো হয়ে যায়।
রমজানের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রাতে কিছুটা আগে ঘুমাতে যান, যাতে সাহরির আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়া যায়।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে ফল, সবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন।
ইফতারের পর চা-কফি সীমিত করুন। প্রয়োজনে হারবাল চা বা গরম দুধ বেছে নিতে পারেন।
ঘুমানোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে মোবাইল ও টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
প্রয়োজনে দিনে ২০–৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোই ভালো।
ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের বিশ্রামও জরুরি। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে রমজান আরও শান্ত, সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে কাটানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন