
কক্সবাজারের রামু উপজেলার পূর্ব ধেছুয়া পালং (ঝুমকাটা–রাবেতা) এলাকার কৃতী সন্তান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম বদরুদ্দোজা সিকদারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ২০২৪ সালের এই দিনে শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন।
মরহুম বদরুদ্দোজা সিকদার কক্সবাজার জেলার স্বনামধন্য আব্দুল আলী সিকদার বংশের একজন গর্বিত সদস্য ছিলেন। তাঁর পিতা মরহুম হাফিজুর রহমান সিকদার ছিলেন এলাকায় একজন সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক ঐতিহ্য, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে ধারা তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, তা তিনি নিজের জীবনাচরণে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বদরুদ্দোজা সিকদার ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন, সদালাপী ও বিনয়ী স্বভাবের মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ধেছুয়া পালং, ঝুমকাটা ও রাবেতা এলাকায় বসবাস করে স্থানীয় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ মীমাংসায় সহযোগিতা করা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক উদ্যোগে নীরবে ভূমিকা রাখা ছিল তাঁর মানবিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
স্থানীয়দের মতে, তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী ও পরোপকারী ব্যক্তি, যিনি মানুষের সুখ-দুঃখে আন্তরিকভাবে সাড়া দিতেন। তাঁর আচরণে ছিল সৌজন্য, কথায় ছিল আন্তরিকতা এবং কাজে ছিল দায়বদ্ধতা। ফলে তিনি স্বল্পভাষী হলেও সমাজে একটি দৃঢ় ও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আজও তাঁর অনুপস্থিতি এলাকাবাসী গভীরভাবে অনুভব করেন।
দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শুভানুধ্যায়ী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর নিকট মরহুমের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।
মানুষ হিসেবে সততা, বিনয় ও মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত বদরুদ্দোজা সিকদার রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—এটাই পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একান্ত প্রার্থনা।
মন্তব্য করুন