
নড়াইলে পৃথক দুই ঘটনায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার এবং সড়ক দুর্ঘটনায় এক নসিমন চালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কালিয়া পৌরসভা এলাকায় সন্দেহজনক একটি ব্যাগ থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইদিন ইফতারের আগমুহূর্তে নড়াইল-মাগুরা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মো. ইমন মোল্যা (১৮) নামে এক তরুণ নসিমন চালক নিহত হন। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে কালিয়া পৌরসভার ছোট কালিয়া এলাকায় সালেহা বেগমের বাড়ির পাশের একটি গাছের গোড়ায় সাদা রঙের একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন। ব্যাগটি তল্লাশি করে এর ভেতরে বোমাসদৃশ একটি বস্তু পাওয়া যায়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাগের ভেতরে থাকা বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কিনা—এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। কালিয়া থানা পুলিশর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। কে বা কারা ব্যাগটি সেখানে রেখে গেছে এবং এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে, একইদিন সন্ধ্যার আগে নড়াইল সদর উপজেলার নড়াইল-মাগুরা মহাসড়কর হাড়িগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইমন মোল্যা নামে এক নসিমন চালক নিহত হন। নিহত ইমন সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের নয়াবাড়ি গ্রামের মো. আমিনুর মোল্যার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ইমন বাড়ির পাশের বিলে ধানক্ষেতে সেচের কাজ শেষে ইফতার করার জন্য নিজ নসিমন চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হাড়িগড়া বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে ঘোরার সময় নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই দিনে দুটি পৃথক ঘটনায় নড়াইলবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন উভয় ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন