
বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি আগামী ১ মার্চ নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ তারিখ ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে এই সনদের বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সনদটি দেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি কার্যকর হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
রিট আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেকোনো নীতিমালা বা সনদ প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আলোচিত এই সনদে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে জনস্বার্থে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদধারীকে বিবাদী করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে রিটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আদালত তা পিছিয়ে ১ মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে।
এদিকে রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অপর একটি বেঞ্চেও একই বিষয়ে পৃথক শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের একাধিক বেঞ্চে আলোচনা হতে পারে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, ১ মার্চের শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই দিন আদালত যদি সনদের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন, তবে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, স্থগিতাদেশ না দিলে সনদের কার্যকারিতা বহাল থাকবে এবং মূল শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
সব মিলিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ১ মার্চের শুনানি ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে অপেক্ষা ও কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।
মন্তব্য করুন