
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বাবু (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নগরের দরগাপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কোন মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি ওসি।
হাবিবুর রহমান বাবু রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি অতীতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার প্রভাব ও পরিচিতি রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বেশ সক্রিয় দেখা যায়। তার ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমসাময়িক ইস্যুতে পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল বলে দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অনিচ্ছুক থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা রাজশাহী মহানগর শাখার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট মামলার বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাবিবুর রহমান বাবুর গ্রেপ্তারকে ঘিরে নগরজুড়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও নানা আলোচনা চলছে। মামলার প্রকৃতি ও অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন