
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ধাক্কায় ধীরেন্দ্রনাথ মন্ডল (৪৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকার কিছু সময়ের মধ্যেই তার পেতে রাখা মাছ ধরার জালে আটকে থাকা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মাটিকাটা ফুলতলি ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ধীরেন্দ্রনাথ গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলবাজার গুড়িপাড়া গ্রামের মৃত শ্রী গোপাল মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিন রাতেও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান ধীরেন্দ্রনাথ। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ একটি অজ্ঞাত ট্রলার তাদের নৌকাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে নৌকাটি দুলে ওঠে এবং বাবা-ছেলে দুজনই নদীতে পড়ে যান। ছেলে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ধীরেন্দ্রনাথ নদীর পানিতে তলিয়ে যান। শীতের রাত ও নদীর স্রোতের কারণে তাকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে রাজশাহী নৌ পুলিশের গোদাগাড়ী ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর নদীতে পাতা ধীরেন্দ্রনাথের নিজের জালেই তার নিথর দেহ আটকে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তহিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ট্রলারের ধাক্কাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘাতক ট্রলারটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পদ্মা নদীতে রাতের বেলায় বেপরোয়া ট্রলার চলাচল ও ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌযান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন