
ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী-র স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত ইকরার বাবা আলভী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, প্ররোচনা ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু বিচার হোক আলভীর। আলভী একটা অসভ্য ছেলে। সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আগে জানতাম না, মনে করতাম সে ভালো। আমার মেয়েও সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের কাছে কিছু প্রকাশ করেনি।”
মিডিয়া জগত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা খারাপ হবে। মিডিয়ার মানুষ ভালো হয় না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইকরার শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তার বাবা জানান, ইকরা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, “আমার মেয়ে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, আলভী তখন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমি তখনই বলেছিলাম, এই বিয়ে দেব না। কিন্তু তারা আমার অল্পবয়সী মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করায়।”
তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে বিয়ে মেনে না নিলেও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরে মেনে নিয়েছিলেন। তবে দাম্পত্য জীবনে ইকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ইকরার মৃত্যুর জন্য সরাসরি আলভীর মাকে দায়ী করে তিনি বলেন, “এই সুইসাইডের পেছনে আলভীর মা দায়ী। উনি একজন অস্বাভাবিক মহিলা। আমার মেয়েটা দারুণ স্টুডেন্ট ছিল। ওদের জন্য তার ক্যারিয়ার, লেখাপড়া সব শেষ হয়ে গেল।”
এছাড়া আলভীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্য এক নারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ঘটনা ইকরাকে গভীরভাবে আঘাত করে। “এমনিতেই আমার মেয়ে আমাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে করত। আলভীকে নিয়ে তার অনেক গর্ব ছিল। যখন দেখল আলভী এমন করছে, তখন হয়তো প্ররোচনায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে,”—বলেন শোকাহত বাবা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি জাহের আলভী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে।
সন্তান হারানোর বেদনা আর বিচারের দাবিতে সরব ইকরার পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্ন।
মন্তব্য করুন