
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অল্প সময়েই অভিনয় দক্ষতা ও পর্দা উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকমহলে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন কোনো নতুন সিনেমা বা চরিত্র নিয়ে নয়; বরং নিজের ভেতরের সংগ্রাম, আবেগ ও আত্মপ্রতিশ্রুতির কথা প্রকাশ্যে এনে।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী তুলে ধরেন তার মানসিক অবস্থার এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখার মুহূর্তের একটি অনুভূতি দিয়ে তিনি লেখাটি শুরু করেন। তার ভাষায়, সেদিন নিজের চোখে এমন কিছু দেখতে পান যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সেই অনুভূতিকে তিনি বিষণ্ণতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক—যে নামেই ডাকা হোক না কেন—এক ধরনের ভারী আবেগ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
সুনেরাহ জানান, এই অনুভূতির পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল না। বাহ্যিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে যেন কোথাও এক শূন্যতা কাজ করছিল। তবু তিনি থেমে থাকেননি। বরং প্রতিদিন নিজের ওপর কাজ করে গেছেন আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, প্রাণশক্তিতে ভরপুর ও আনন্দময় জীবন গড়ে তোলার লক্ষ্যে। তার মতে, ব্যক্তিগত উন্নতি এবং মানসিক শক্তি অর্জনের এই যাত্রা ছিল একান্তই তার নিজের।
অভিনেত্রী স্বীকার করেন, জীবনের কিছু সংগ্রামের গল্প তিনি সচরাচর জনসম্মুখে আনেন না। অনেক কঠিন পথ একাই পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজ আরও দৃঢ় করেছে। তার কথায়, “সেই পথটা ছিল একান্তই আমার। আমি একাই সবটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি। আর আমি এই পরিশ্রম বৃথা যেতে দেব না।”
পোস্টের শেষাংশে নিজের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সুনেরাহ। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি হাসবেন এবং খুশি থাকবেন—কারণ এই হাসিই তার সঙ্গে মানানসই। তিনি সুখী ও উন্নত জীবনকেই বেছে নিতে চান। কোনো ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা নেতিবাচকতা যেন তার কাছ থেকে সেই আনন্দ কেড়ে নিতে না পারে—এটাই তার নিজের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি।
ভক্তরা ইতোমধ্যে তার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে তাকে শক্ত থাকার পরামর্শ ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। তার এই বার্তা শুধু একজন তারকার ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়; বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব সম্পর্কেও একটি স্পষ্ট ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন