
রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় বুধবার (৪ মার্চ) একটি অটোরিকশা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ১২ বছর বয়সী শিশুকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অটোরিকশাচালক জনতার হাতে ধোলাই খেয়ে পুলিশ হেফাজতে পড়েছেন।
মো: গোলাম কিবরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অটোরিকশাচালক মো: আকাশ (২৫) শিশুর নানি কাজল রেখার কাছ থেকে ভাড়া ২০ টাকা দাবি করেন। নানির কাছে মাত্র ২০ টাকা থাকায় তিনি অটোচালককে ১০ টাকা দেন এবং বাকিটা পরে দেবেন বলে জানান। এ সময় চালক নানির কথার প্রতি অমর্ত্য না করে শিশুকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। চালক দাবি করেন, তিনি শিশুকে কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।
শিশুর নানি কাজল রেখা, পেটব্যথার কারণে শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে শিশু ও নানিকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর নানি রাস্তায় দাঁড়িয়ে চালককে খুঁজতে থাকেন। হড়গ্রাম এলাকায় লোকজন চালককে শনাক্ত করলে জনতা তাকে ধরে পেটাতে থাকে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর হোসেন জানান, সাধারণত যাত্রীরা শিশুদের ভাড়া দেন না। কিন্তু ওই অটোরিকশাচালক শিশুর নানি ও শিশুর মোট ভাড়া ২০ টাকা দাবি করেছিলেন। নানি কেবল ১০ টাকা দিতে পেরেছিলেন। এরপর চালক শিশুকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে ও অন্য হাতে রিকশা চালিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর জনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শিশুটি একাই বাড়ি ফিরে যান। পরে পুলিশ শিশুর কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা নেয়।
শিশুর বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তিনি গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে বাচ্চা মানুষ করছেন। অটোরিকশাচালকের এই কর্মকাণ্ডকে তিনি অপহরণের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাজপাড়া থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
অটোরিকশাচালক আকাশ পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং তাঁর অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, ১০ টাকা ভাড়ার জন্য শিশুকে অটোরিকশায় তুলে নিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ছবি তোলার সময় তিনি মুখ ঢাকেন, কারণ তাঁর কলেজ জীবনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, ঘটনাস্থল কাশিয়াডাঙ্গা থানার এলাকা হওয়ায় মামলা সেখানে হবে। তবে শিশুর বাবার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে কেবল মিলমিশও করা যেতে পারে। আপাতত অটোরিকশাচালককে রাজপাড়া থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়রা একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন যে, ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় ও শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় জনতার সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন