
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সেলিম আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তিনি ঝাড়ু হাতে নেমে পৌর শহরের রাস্তাঘাট, বাজার এলাকা ও অলিগলিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ইউএনও মোঃ সেলিম আহমেদ প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা সবাই মিলে রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কার করব এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করব। আগামীর সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পাঁচবিবি গড়ে তুলতে এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালানো হবে।”
এসময় ইউএনওর নেতৃত্বে পাঁচবিবি তিনমাথা থেকে ১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। পৌরসভার রাস্তাঘাট ও বাজার এলাকা থেকে জমে থাকা আবর্জনা সরানোর পাশাপাশি দোকানদার ও পথচারীদের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যও রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার ও সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই বলেন, সরকারি কর্মকর্তার এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এটি এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বেলায়েত হোসেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম ডালিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বুলু, জেলা জামায়াত নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াত আমীর ডাঃ সুজাউল করিম, সেক্রেটারি মুক্তার হোসেন, পাঁচবিবি বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ তাইজুল ইসলাম, সম্পাদক জীবনকৃষ্ণ সরকার বাপ্পি, প্রেসক্লাব সম্পাদক সজল কুমার দাসসহ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিই করে না, বরং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট হয়, স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ মিলিত হলে শহরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং জীবনযাত্রার জন্য আরও আরামদায়ক করা সম্ভব। পাঁচবিবি পৌর শহরের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান একদিকে যেমন প্রশাসনের দৃঢ় উদ্যোগের প্রমাণ, তেমনি অন্যদিকে এটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি অনন্য উদাহরণ।
মন্তব্য করুন