
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে অভিযান ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে খোলা তেল বিক্রি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে দুইজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে জ্বালানি তেলের বিক্রয় কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কিছু ব্যবসায়ী নির্ধারিত নিয়ম না মেনে খোলা তেল বিক্রি করছেন এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে জরিমানার পর তাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এ সময় বাজারে অবৈধভাবে তেল মজুদ করা হচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিস্ফোরক লাইসেন্স হালনাগাদ রাখা এবং তেল ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধ রশিদ সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তেলের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই এ বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু বলেন, “জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুদ করে বা বেশি দামে বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে বাজারে অনিয়ম কমবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। প্রশাসনের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন