
রাজশাহী বিভাগে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বিশাল ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। তেল পাওয়ার আশায় অনেকে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন, তবুও পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। যেসব স্টেশনে তেল আছে, সেগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে সীমিত পরিমাণে।
পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তবে গত তিন দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে হঠাৎ করে তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি মাত্র ৮০০ টাকার পেট্রোল নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকা এবং আরেকটি স্টেশন থেকে ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরীতে তেলের সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ স্টেশন বাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কোথাও সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, আর কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি।
একজন মোটরবাইক চালক বলেন, “প্রতিদিনই বাইক ব্যবহার করতে হয়। তাই একাধিক পাম্প ঘুরে ট্যাংকিতে তেল ভরার চেষ্টা করছি।”
পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল জানান, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোও গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু স্টেশন তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনছে। যারা বেশি বাইক চালান, তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এতে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।”
অবস্থা স্বাভাবিক কবে হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, শিগগিরই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও যাতায়াত ব্যাহত না হবে।
মন্তব্য করুন