
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) শনিবার (৭ মার্চ) রাতে বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসটিএফ।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ওসমান হাদিকে হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন পালিয়ে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে তারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে ছিল। পরে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা সম্প্রতি বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আসে।
এসটিএফ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তারা অভিযান চালিয়ে এই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। আটককৃতরা হলেন- রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), পটুয়াখালী এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), ঢাকা।
এ বিষয়ে এসটিএফ থানায় মামলা রুজু করে তাদের আদালতে পেশ করেছে। আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গত ২৯ ডিসেম্বরই বনগাঁয় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার এই তথ্য জানাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এই দুজন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন