
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১২টা ৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মনাকষা বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের বুগলাউরি ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ৩০৫০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।
জব্দকৃত এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এসব মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করার আগেই অভিযান চালিয়ে তা জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল জোরদার করেছে।
এদিকে গত তিন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এ সময় একজন আসামিসহ ভারতীয় ২৩২ বোতল ফেন্সিডিল, ৩৮৯ বোতল মদ, ১৫৬৮ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ এবং ৭৫৫০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব মালামালের মোট আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদকসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং নদীপথে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট পরিচালনা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই চোরাচালান কার্যক্রম সফল হতে না পারে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়েও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন