
ইরানের একটি প্রতিবেদনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতের মধ্যে নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হতে পারেন—এমন একটি অনুমান তুলে ধরে। তবে ওই প্রতিবেদনে তার ওপর হামলার কোনো সরাসরি প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।
রিপোর্টটি কয়েকটি পরোক্ষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদারের খবর, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপদেষ্টা জারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথিত ফোনালাপের একটি প্রতিবেদন।
তাসনিমের প্রতিবেদনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি দাবি উল্লেখ করা হয়, যা রুশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ইরান নেতানিয়াহুর একটি গোপন আশ্রয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং সেই হামলায় তার এক ভাই নিহত হয়েছেন। তবে তাসনিম নিজেই উল্লেখ করেছে যে এ তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।
ইসরাইলি সূত্রগুলো বলছে, প্রকাশ্য তথ্য এই দাবিকে সমর্থন করে না। গত ৭ মার্চ নেতানিয়াহু একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন, যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ৬ মার্চ তিনি বিয়ারশেবায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলেও সরকারি তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার ফোনালাপের খবরও ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি বা ভিডিও কম দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এসব বিষয়কে ঘিরে দ্রুত গুজব বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য সরকারি সূত্র তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে করা দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বরং ইসরাইলি গণমাধ্যমে এটিকে গুজব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।
মন্তব্য করুন