
নড়াইল লোহাগড়া উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে জিৎ বাগচি (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বিজয় (১৭) নামে আরেক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের লোহাগড়া–লাহুড়িয়া সড়কের তেতুলবাড়িয়া মান্দারতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিৎ বাগচি লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের বিভাষ বাগচির ছেলে। আহত বিজয়ও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে জিৎ ও তার বন্ধু বিজয় মোটরসাইকেলে করে কল্যাণপুর গ্রাম থেকে লোহাগড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে তারা লোহাগড়া–লাহুড়িয়া সড়কের তেতুলবাড়িয়া এলাকার মান্দারতলা মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিয়ন্ত্রণ হারানো মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক জিৎ বাগচি গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধু বিজয় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন কিশোর নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত জিৎ বাগচির মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে অল্প বয়সে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, জিৎ ছিল শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে এবং সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানো এবং বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন