
চাঁপাইনবাবগঞ্জচাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ৫৯ বিজিবি পৃথক দুইটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এসময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানে সোনামসজিদ বিওপি’র একটি বিশেষ দল শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় শিবগঞ্জ উপজেলার আড়গাড়া চকসিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খাইরুল ইসলামের ছেলে মোঃ আলীম (৩২) কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৩৭৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসক্যাপ ডিএক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অপরদিকে একই রাতে চকপাড়া বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের নামোচকপাড়া সীমান্ত এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসক্যাপ ডিএক্স সিরাপ এবং ৩ হাজার ১৭০ পিস নেশাজাতীয় টেনসিউইন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তবে এ অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত তিন মাসে এই ব্যাটালিয়নের অভিযানে ১১ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও মাদকবিরোধী সচেতনতায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন