
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।1
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল মোড় থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।1
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফয়সাল রাযহান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান এবং সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অরুপ কুমার দাস, দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম, জেলা সমবায় অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোখলেছুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন-অর-রশীদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে1র মনিটরিং অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল প্রশাসনের উদ্যোগেই নয়, বরং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই ধরনের কর্মসূচি সফল করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলকে এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শহরের পরিবেশ আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
মন্তব্য করুন