
“পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মাসব্যাপী নদী-নালা ও খাল-বিল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।
দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সারা দেশে খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাঁতী করিতলা থেকে সুবর্ণসাড়া গ্যারেজ পর্যন্ত বিস্তৃত খালে নেমে পরিষ্কার কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা খালে জমে থাকা কচুরিপানা, প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। কর্মসূচিটি মাসব্যাপী চলবে বলে জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম গোলাম, সদস্য সচিব বনি আমিন, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী আলতাফ হোসেন প্রামানিক, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূইয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শামীম সরকার, বেলকুচি উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন প্রামাণিক, সদস্য সচিব আলম প্রামাণিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য ইমতিয়াজ উদ্দিন, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবর আলী মেম্বার, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হাসমত আলী হাসুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, রাজনীতি করার অর্থ শুধু ক্ষমতার জন্য কাজ করা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। খাল ও নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সৃষ্টি হয়, যা মশার বংশবিস্তার ঘটিয়ে ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল-বিল পরিষ্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বেলকুচি উপজেলায় এই মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলোতে কচুরিপানা ও ময়লা জমে থাকার কারণে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে খালগুলো পরিষ্কার হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
স্থানীয়দের মতে, খাল ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। এজন্য তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন