
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে নিজ অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. ফরিদুল ইসলাম। তার এই মানবিক উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে এবং উপকারভোগীদের মুখে ফুটেছে হাসি।
সোমবার (১৭ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন অসচ্ছল পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার পৌঁছে দেন। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল লুঙ্গি ও কিছু নগদ অর্থ, যা আসন্ন ঈদের প্রস্তুতিতে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনে। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই সহায়তা পেয়ে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি মরহুম গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান-এর ভাতিজা হিসেবেও এলাকায় পরিচিত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করে। অনেকেই মনে করেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে দরিদ্র মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব এস এম আব্দুর রাজ্জাক, এবং স্থানীয় যুবক আবু হুরায়রা, রমজান, সিজান ও কনকসহ আরও অনেকে। তারা এই উদ্যোগে সহায়তা করেন এবং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমি নিজ অর্থায়নে গরিব, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছি। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবের সময়ে যেন কেউ বঞ্চিত না থাকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন